শিশুর প্রথম দুই বছরের পুষ্টি তার সারাজীবনের স্বাস্থ্য, বৃদ্ধি ও মেধার ভিত্তি গড়ে দেয়। সঠিক সময়ে সঠিক খাবার দেওয়াই এখানে মূল কথা।
প্রথম ছয় মাস: শুধু বুকের দুধ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় পানি, মধু, চিনি-পানি বা অন্য কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই, কারণ বুকের দুধেই প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি ও পানি থাকে। শিশু যতবার চায় ততবার খাওয়ান। কোনো কারণে বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিন।
ছয় মাস থেকে সলিড খাবার
ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার শুরু করুন এবং বুকের দুধ দুই বছর বা তার বেশি সময় চালিয়ে যান। শুরুতে দিনে দুই-তিন চামচ নরম, চটকানো খাবার দিন এবং ধীরে ধীরে পরিমাণ ও ঘনত্ব বাড়ান।
বাড়ির তৈরি উপযোগী খাবার
- চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে নরম খিচুড়ি, অল্প তেল দিয়ে রান্না করা
- দুধ বা পানিতে রান্না করা সুজি
- কাঁটা বেছে চটকানো মাছ, যেমন রুই বা কই
- ভালোভাবে সেদ্ধ করা ডিমের কুসুম, পরে পুরো ডিম
- চটকানো কলা, পেঁপে, আলু ও মিষ্টি কুমড়া
- পাতলা ডাল ও নরম করে রান্না করা মুরগির মাংস
নমুনা সাপ্তাহিক পরিকল্পনা (৮–১২ মাস)
- শনিবার: সকালে সুজি, দুপুরে সবজি খিচুড়ি, বিকেলে চটকানো কলা
- রবিবার: সকালে ডিমের কুসুম ও নরম রুটি, দুপুরে মাছ-ভাত চটকানো, বিকেলে পেঁপে
- সোমবার: সকালে সুজি, দুপুরে ডাল-মুরগি খিচুড়ি, বিকেলে সেদ্ধ আলু
- মঙ্গলবার: সকালে চালের পায়েস (চিনি ছাড়া), দুপুরে মাছ ও মিষ্টি কুমড়া, বিকেলে আপেল সেদ্ধ
- বুধবার: সকালে সেদ্ধ ডিম, দুপুরে সবজি খিচুড়ি, বিকেলে দই
- বৃহস্পতিবার: সকালে সুজি, দুপুরে মুরগি ও ভাত, বিকেলে চটকানো আম বা কলা
- শুক্রবার: সকালে নরম রুটি ও ডাল, দুপুরে মাছ খিচুড়ি, বিকেলে মৌসুমি ফল
প্রতিবেলার খাবারের মাঝে চাহিদামতো বুকের দুধ চালিয়ে যান। খাওয়ানোর আগে হাত ও বাসনপত্র ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং খাবার তাজা রান্না করে দিন। শিশুকে জোর করে খাওয়াবেন না; তার ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত বুঝে খাওয়ান।
শিশুর ওজন ও উচ্চতা নিয়মিত ট্র্যাক করুন।
বেবি গ্রোথ ট্র্যাকারমানসম্মত বেবি ফুড দেখুন।
বেবি ফুড