Skip to content

নবজাতকের যত্ন

জন্মের পর প্রথম ২৮ দিন শিশুর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এ সময় কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে শিশু সুস্থ ও নিরাপদ থাকে। নিচে নবজাতকের যত্নের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো।

খাওয়ানো

জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করুন। প্রথম হলদেটে দুধ বা শালদুধ শিশুর প্রথম টিকার মতো কাজ করে, তাই এটি অবশ্যই খাওয়াবেন। নবজাতক সাধারণত দিনে ৮–১২ বার খায়। মধু, পানি বা অন্য কোনো খাবার এ সময় দেবেন না।

ঢেকুর তোলানো

খাওয়ার সময় শিশুর পেটে বাতাস ঢুকতে পারে। খাওয়ানোর মাঝে ও পরে শিশুকে কাঁধে সোজা করে ধরে পিঠে আলতো চাপড় দিন বা হাত বুলিয়ে দিন। একটু দুধ তুলে ফেলা স্বাভাবিক।

নাভির যত্ন

গোসল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জন্মের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা গোসল না করানোর পরামর্শ দেয়। নাভি পড়ার আগে নরম ভেজা কাপড়ে গা মুছিয়ে দিন। পরে সপ্তাহে দু-তিনবার কুসুম গরম পানিতে দ্রুত গোসল করানোই যথেষ্ট। গোসলের পর দ্রুত শুকনো তোয়ালেতে মুড়িয়ে গরম রাখুন এবং কখনো শিশুকে পানিতে একা রাখবেন না।

নিরাপদ ঘুম

টিকা

বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়। জন্মের পরপরই বিসিজি দিয়ে শুরু হয়, এরপর ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে এবং ৯ ও ১৫ মাসে পরবর্তী ডোজগুলো দেওয়া হয়। টিকা কার্ড যত্নে রাখুন এবং নিকটস্থ টিকাকেন্দ্র থেকে তারিখ জেনে নিন।

শিশু যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে কি না কীভাবে বুঝব?

দিনে ৬ বা তার বেশি ভেজা ডায়াপার, নিয়মিত পায়খানা এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়া ভালো লক্ষণ। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সাথে ওজন মিলিয়ে দেখুন।

নবজাতকের হালকা হলুদ ভাব কি চিন্তার বিষয়?

প্রথম সপ্তাহে হালকা জন্ডিস অনেক শিশুর হয়। তবে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় হলুদ ভাব, হাত-পায়ের তালু হলুদ হওয়া বা শিশু কম খেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

কখন জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার দেখাতে হবে?

জ্বর বা শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা, দুধ টানতে না পারা, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা একেবারে নিস্তেজ হয়ে গেলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।

শিশুকে কি সরিষার তেল মালিশ করা যায়?

নবজাতকের নাজুক ত্বকে সরিষার তেল জ্বালাপোড়া করতে পারে। মালিশ করতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে হালকা বেবি অয়েল ব্যবহার করুন।

নিরাপদ গোসলের জন্য বেবি বাথটাব দেখুন।

বাথটাব

শিশুর তাপমাত্রা নিয়মিত মাপুন।

থার্মোমিটার